• সোমবার ১৭ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৩ ১৪৩১

  • || ০৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

দৈনিক গোপালগঞ্জ

২৪ দিন ধরে বন্ধ দলিল রেজিস্ট্রেশন, চরম ভোগান্তি

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২৪  

জমির দলিল করার জন্য ২ দিনের সময় নিয়ে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে বিপাকে পড়েছেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার তারাশী গ্রামের রেজাউল ইসলাম। দলিল রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। একই অবস্থা কোটালীপাড়া পৌরসভার বাসিন্দা আবু হাসানের। জমি রেজিস্ট্রেশন করার জন্য ঢাকা থেকে ২ দিনের ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসেন তিনিও। হতাশ হয়ে আজ ঢাকায় ফিরতে হচ্ছে তাকে। 

উপজেলার সোনাখালী গ্রামের আকবর শেখ বলেন, জরুরি টাকার প্রয়োজনে জমি বিক্রি করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু দলিল লেখকদের কর্মবিরতির কারণে জমি বিক্রি করতে পারিনি। দলিল রেজিস্ট্রি না হওয়ার কারণে ক্রেতা আমাকে টাকা দেয়নি। যার ফলে আমার পারিবারিক সমস্যার সমাধান হয়নি। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাব রেজিস্টারের সঙ্গে দলিল লেখকদের দ্বন্দ্বে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় ২৪ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে জমির দলিল রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম। দলিল লেখকদের অভিযোগ সাব-রেজিস্ট্রার কাওসার খানের দলিল রেজিস্ট্রেশনে অতিরিক্ত ঘুষ দাবি করেন আসছেন। চাহিদা মতো ঘুষ দিতে না পারলে দলিল রেজিস্ট্রেশনে টালবাহানা করে সময়ক্ষেপণ করাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন। এসব অভিযোগ এনে ১৬ মে থেকে কর্মবিরতি পালন করছে দলিল লেখক সমিতি। যার ফলে বন্ধ হয়ে আছে এ উপজেলার জমির দলিল নিবন্ধন ও সম্পাদনের কাজ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার সাধারণ জনগণ। 

অন্যদিকে সাব-রেজিস্ট্রার কাওসার খান বলেন, আমি কোনো দলিল লেখকের কাছে ঘুষ দাবি করিনি। আমি শুধু তাদের কাছে বৈধ কাগজপত্র চেয়েছি। এ জন্যই দলিল লেখকরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন।
 
এদিকে সাব-রেজিস্ট্রারের ঘুষ দাবিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে সাব-রেজিস্টারের বদলি দাবি করে গত ৬ জুন মানববন্ধন করে দলিল লেখক সমিতির সদস্যেরা। ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত আবেদন করেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলা দলিল লেখক সমিতির নেতারা। সাব-রেজিস্ট্রার কাওসার খানের বদলি না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা দলিল লেখক সমিতি কর্মবিরতি পালন করবে বলে তারা জানিয়েছেন। 

দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনি সেন বলেন, কাওসার খান গত ৩ মার্চ সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে কোটালীপাড়ায় যোগদান করেন। যোগদানের পরে তিনি দলিল লেখকদের কাছে দলিলের শ্রেণিমতে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। বৈধ কাগজপত্র থাকাও সত্ত্বেও ও সাব-রেজিস্ট্রার কাওসার খান ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি দলিল রেজিস্ট্রি করেন না। এতে করে জমির ক্রেতা বিক্রেতারা প্রতিনিয়ত হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে দলিল লেখক সমিতির পক্ষ থেকে জেলা রেজিস্ট্রারসহ ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে কোনো প্রতিকার না পেয়ে গত ১৬ মে থেকে কর্মবিরতি পালন শুরু করে আসছি।  

কোটালীপাড়া উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আহম্মদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমি ৫৫ বছর ধরে দলিল লেখি। কাওসার খানের মতো এ ধরনের ঘুষখোর সাব-রেজিস্ট্রার আমার কর্মজীবনে দেখিনি। এই ঘুষখোর সাব-রেজিস্ট্রারকে বদলি না করা পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলবে।’ 

এই কর্মবিরতিকালীন সময়ে সরকার প্রায় ১ থেকে দেড় কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে বলে দলিল লেখক সমিতির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। 

ইউপি চেয়ারম্যান মাজাহারুল আলম পান্না বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার কাওসার খানের ঘুষ দাবি ও নানা অনিয়মের কথা জানতে পেরেছি। তার এই ঘুষ দাবির কারণে কোটালীপাড়া দলিল লেখক সমিতি গত ১ মাস ধরে কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে করে সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয় অচল হয়ে পড়েছে। এর জন্য কোটালীপাড়ার হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। দ্রুত এর একটি সমাধান হওয়া প্রয়োজন। 

কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আক্তার জানান, বিষয়টি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার আইনশৃংখলা সভায় আলোচনা হয়েছে। দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করা হবে।

জেলা রেজিস্ট্রার একেএম রফিকুল কাদির বলেন, দলিল লেখকদের কর্মবিরতির কথা জেনেছি। তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করা হবে।  

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ