• শনিবার ১৩ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • চৈত্র ৩০ ১৪৩০

  • || ০৩ শাওয়াল ১৪৪৫

দৈনিক গোপালগঞ্জ

মন্ত্রীর আশ্বাস

কর্মবিরতি স্থগিত ট্রেইনি ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২৪  

আগামী ১ মাসের মধ্যে ভাতা বৃদ্ধি, বকেয়া পরিশোধসহ সব দাবি পূরণে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনরত পোস্টগ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কাজে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। চার দফা দাবিতে তারা টানা ৫ দিন কর্মবিরতি পালন করে আসছিলেন। সারা দেশে সরকারি হাসপাতালগুলোয় প্রায় ১০ হাজার চিকিৎসকের দাবি আদায়ের খেলায় মুমূর্ষু রোগীসহ সাধারণ রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।

এর আগে ২৩ মার্চ শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেনের সঙ্গে দেখা করে পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা চার দফা দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে-পোস্টগ্র্যাজুয়েট ট্রেইনিদের (এফসিপিএস, রেসিডেন্ট, নন-রেসিডেন্ট) ৫০ হাজার ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করা। ঈদের আগে সব বকেয়া পরিশোধের ব্যবস্থা করা। বিএসএসএমইউর অধীনে ১২টি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের রেসিডেন্ট এবং নন-রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের ভাতা আবার চালু করা। চিকিৎসক সুরক্ষা আইন সংসদে পাশ ও বাস্তবায়ন করা। এসব দাবির ব্যাপারে কোনো আশানুরূপ ফলাফল না আসায় ২৫ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত পূর্ণ কর্মবিরতি ঘোষণা দেন চিকিৎসকরা। এ ধারাবাহিকতায় আন্দোলনকারীরা বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সমবেত হন।

পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের ঢাকা মেডিকেল শাখার আহ্বায়ক ডা. আল মামুন সরকার বলেন, হাসপাতালের বিছানায় রোগী রেখে দাবি আদায়ে রাস্তায় নেমেছেন তারা। পেটে ক্ষুধা থাকলে আমরা চিকিৎসা সেবা দেব কি করে? বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে চিকিৎসকদের ২০ সদস্যের প্রতিনিধিদল স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের দাবির সঙ্গে তিনি একাত্মতা প্রকাশ করেন। গণমাধ্যমকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে দ্রুত দাবি পূরণ করা হবে। এজন্য তিনি কিছুটা সময় চান।

বৈঠক শেষে পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. জাবির হোসেন বলেন, আমাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ১ মাস সময় চেয়েছেন। তার আশ্বাসের পর আমরা কর্মস্থলে ফিরে যাচ্ছি। তবে ঈদের আগেই সব বকেয়া পরিশোধ করতে হবে। কত টাকা বৃদ্ধি করবে-তা জানাতে হবে। আশ্বাস অনুযায়ী আগামী ১ মাসের মধ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট ফলাফল না পেলে আবার আমরা রাজপথে নামব।

এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়া একজন মানুষের মৌলিক অধিকার। তবে বিভিন্ন সময় নানা অসন্তোষ ও দাবি পূরণ না হওয়ায় চিকিৎসকরা কর্মবিরতিতে যান। অসহায় রোগীদের স্বার্থে চিকিৎসকদের অসন্তোষ দূর করতে সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। জানতে চাইলে ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে রোগীদের জীবন হুমকির মুখে পড়া স্বাভাবিক। আবার বর্তমান বাজারে চিকিৎসকদের দাবি-দাওয়াও যৌক্তিক। এজন্য স্থায়ী সমাধান দরকার। পেটে ক্ষুধা থাকলে সেবায় মনোযোগ দেওয়া যায় না। সবদিক বিবেচনায় নিয়ে সরকারের উচিত চিকিৎসকদের প্রতি সহানুভূতি দেখানো। আর চিকিৎসকদের রোগীদের বিষয়ে প্রাধান্য দিতে হবে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তাফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, গতবারের আন্দোলনের পর কিছু ভাতা বাড়ানো হয়েছিল। এবারও এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। যে পরিমাণ ভাতা তারা পাচ্ছেন তা দিয়ে চলা কঠিন। তবে এজন্য অনশন বা ধর্মঘট করে সরকারকে বিপাকে ফেলা বা রোগীদের ভোগান্তিতে রাখা ঠিক নয়। আলোচনা করে সমাধান হওয়া দরকার। চিকিৎসা অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. রশীদ-ই-মাহবুব যুগান্তরকে বলেন, পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি বা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা প্রদান সব দেশে চালু আছে। বাংলাদেশ সরকারও দিচ্ছে। নির্দিষ্ট ফ্রেম-ফর্মুলায় ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। এ জন্য চিকিৎসক ও আমলাদের রাষ্ট্রীয় নীতির মধ্যে আনতে হবে।

রামেক হাসপাতালে রোগীদের দুর্ভোগ : রাজশাহী ব্যুরো জানায়, ট্রেইনি ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হয়েছে। এতে রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে রামেক হাসপাতালের পরিচালক আলোচনায় বসেন। এদিকে, ঢাকায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে চিকিৎসকদের বৈঠকের পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, মেডিকেল কলেজের প্রভাষক পর্যায়ের চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালন করছেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তারা রোগী দেখেন। এরপর রাত ১০টার দিকে তারা একবার হাসপাতালে আসেন। শিশু ওয়ার্ড, সার্জারি ও গাইনি ওয়ার্ডে একজন করে চিকিৎসক রাত ১০টা পর্যন্ত থাকছেন বলে জানা গেছে। বাকি সময় মোবাইল ফোনে চিকিৎসা দিচ্ছেন নার্সরা। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রোগীর স্বজন আনারুল ইসলাম বলেন, সকালে চিকিৎসক থাকলেও দুপুরের পর পাওয়া যায় না। নার্সরা ওষুধপত্র দিচ্ছেন। কারও সমস্যা হলে চিকিৎসককে তারা ফোন দিচ্ছেন।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএফএম শামীম আহাম্মদ জানান, হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ সব মিলিয়ে প্রায় ৩০০ জন জনবল ছিল না। এ কারণে স্বাভাবিকভাবে প্রভাব পড়ে। তবে জরুরি জায়গাগুলোতে জনবল ম্যানেজ করা হয়। প্রতিটি ওয়ার্ডে সিনিয়র চিকিৎসকদেরও রাখা হয়।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ