• শুক্রবার ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ||

  • অগ্রহায়ণ ২৩ ১৪৩০

  • || ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৫

দৈনিক গোপালগঞ্জ

নির্বাচনের আগে পুলিশ ও প্রশাসনে রদবদল হচ্ছে না

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর ২০২৩  

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পুলিশ ও প্রশাসনের মাঠপর্যায়ে রদবদল আনতে কোনো উদ্যোগ নেবে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনের আগে মাঠপর্যায়ে পুলিশ ও জনপ্রশাসনে সরকার যেভাবে নিয়োগ দিয়েছিল, সেটা ঠিক রেখেই নির্বাচন করতে যাচ্ছে সাংবিধানিক এই সংস্থা।

ইসি মনে করছে, পুলিশ ও প্রশাসনে এখন বড় ধরনের রদবদল করতে গেলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। তবে নির্বাচনকালে কোথাও কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া বা রদবদল করার বিষয়টি কমিশন দেখবে। এখন পর্যন্ত এটাই নির্বাচন কমিশনের অবস্থান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকেন পুলিশ ও প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা। বিশেষ করে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) এবং পুলিশ সুপার (এসপি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি)। এর মধ্যে ডিসিরা রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং ইউএনওরা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থাৎ মাঠপর্যায়ে তাঁরাই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় থাকছেন।

এর আগে ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং তার আগে–পরে বিভিন্ন স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। সে সময় তাঁদের ওপর ইসির নিয়ন্ত্রণ দেখা যায়নি। বর্তমান কমিশনও শুরুতে বিষয়টি আমলে নিয়েছিল। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নিজেদের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন। সেখানে তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে ১৪টি চ্যালেঞ্জ বা বাধা চিহ্নিত করেছিল। এর দ্বিতীয়টি ছিল ‘নির্বাচনের দায়িত্বে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা বিশেষ করে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন।’

নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত মাঠ প্রশাসনে রদবদলের বিষয়ে কেউ কোনো দাবি নির্বাচন কমিশনের কাছে করেনি। কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পেলে তখন কমিশন ব্যবস্থা নেবে।

ইসি তাদের কর্মপরিকল্পনায় এবার যত দূর সম্ভব নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইসির নিজেদের কোনো কর্মকর্তাকে রিটার্নিং কর্মকর্তা করা হয়নি। ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে ৫৬ জন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সহায়তার জন্য ‘সহায়ক কর্মকর্তা’ করা হয়েছে। এটি নিয়ে ইসির কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

২০০৯ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে নির্বাচন সামনে রেখে গত জুন-জুলাইয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের মাঠপর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল করে সরকার। গত জুলাই মাসে ৫ বিভাগে নতুন বিভাগীয় কমিশনার রদবদল এবং ৩০টি জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। কাছাকাছি সময়ে পুলিশের ডিআইজি ও পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ৬৯ কর্মকর্তাকে রদবদল করা হয়। অন্তত ৭০টি উপজেলায় ইউএনও বদল করা হয়। তখন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো অভিযোগ করেছিল, সরকার নির্বাচন সামনে রেখে পছন্দমতো মাঠ প্রশাসন সাজাচ্ছে।

২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে ইসি সচিব, জনপ্রশাসন ও পুলিশের ৯২ জন কর্মকর্তার প্রত্যাহার চেয়ে ইসিকে চিঠি দিয়েছিল তখনকার বিরোধী রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তবে তখন ইসি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
নির্বাচন সামনে রেখে ইসি পুলিশ ও প্রশাসনে রদবদল আনার উদ্যোগ নেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ ও প্রশাসনের কারও বিরুদ্ধে যদি তথ্য–প্রমাণসসহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে সেখানে রদবদল করা হবে।

সরকার সাজানো প্রশাসন দিয়ে নির্বাচন করতে চায়, এমন অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে সব সময় বিরোধী দলের অভিযোগ থাকে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে অভিযোগ সুনির্দিষ্ট হতে হবে এবং তথ্য–প্রমাণ থাকতে হবে।

অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের নির্বাচনগুলোর আগে দলীয় সরকারের সাজানো প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল করা হয়।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ