• বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৬ ১৪৩১

  • || ১২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

দৈনিক গোপালগঞ্জ

নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আসছে ৯ টাকা ইউনিটে

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২৪  

প্রায় এক দশক ধরে নানা পর্যায়ে আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে সরকার। নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশ ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। এই বিদ্যুৎ আমদানি করতে ভারতকে দিতে হবে ট্রেডিং মার্জিন ও সঞ্চালন চার্জ। সব কিছু মিলিয়ে নেপাল থেকে কেনা বিদ্যুতের দাম পড়বে প্রায় ৯ টাকা।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ত্রিপক্ষীয় বৈঠক ও দরকাষাকষি শেষে নেপাল থেকে ভারতের মুজাফফরপুর সাবস্টেশন পর্যন্ত প্রতি ইউনিট এনার্জি খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৪০ মার্কিন সেন্টস, প্রতি ডলারের দাম ১১৭ টাকা হিসাব করলে বাংলাদেশি সাড়ে ৭ টাকা হয়। এ ছাড়া ভারতে ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কোম্পানি এনপিটিপিসি, বিদ্যুৎ ভেপার নিগাম লিমিটেডের (এনভিভিএন) ট্রেডিং মার্জিন নির্ধারণ করা হয়েছে ভারতীয় রুপিতে ০.০৫৯৫ রুপি। গতকালের হিসাবে প্রতি রুপি ১ টাকা ৩৬ পয়সা হিসাব করলে যা বাংলাদেশি টাকায় দাঁড়ায় ৮২ পয়সার মতো। এ ছাড়া রয়েছে ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশনের নির্ধারিত ট্রান্সমিশন বা সঞ্চালন চার্জ। সব কিছু মিলিয়ে ৯ টাকার বেশি পড়বে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করছি। নেপাল থেকেও অনেক দিন ধরে আমদানির চেষ্টা চলছে। সব পক্ষের আলোচনা শেষে এখন নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই আমদানি শুরু হবে। তিনি বলেন, নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে হলে ভারতের ওপর দিয়ে তাদের সঞ্চালন লাইন ব্যবহার করতে হবে। ভারত এতে সম্মত রয়েছে। এখন নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে।

জানা গেছে, ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির লক্ষ্যে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা একটি উপকেন্দ্র বা সাবস্টেশন আরও আগে নির্মাণ করা হয়েছে। একই উপকেন্দ্র ব্যবহার করে এখন ভারত হয়ে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে। নেপালের ন্যাশনাল ইলেকট্রিক অথরিটি এবং বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে ট্যারিফ নির্ধারণ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া ভারতের সঙ্গেও সঞ্চালন চার্জ ও ট্রেডিং মার্জিন চূড়ান্ত হয়েছে।

বর্তমানে ভারত থেকে তিনটি সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে ২ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে সরকার। ভারতের বহরমপুর থেকে ভেড়ামারা সাব-স্টেশনের মাধ্যমে প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট, কুমিল্লা দিয়ে ভারতের সূর্যনগর থেকে আরও ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। এ ছাড়া ভারতের বেসরকারি কোম্পানি আমদানি গ্রুপ থেকেও প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে সরকার। নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হলে বিদ্যুৎ আমদানির তালিকায় আরেকটি নতুন দেশ যুক্ত হবে।

এদিকে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সম্পর্কিত মন্ত্রিসভা কমিটিতেও নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টি অনুমোদন পেয়েছে। মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ কিনবে। ভারতের পাওয়ার গ্রিড ব্যবহার করে নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, প্রায় ২৫ বছর ধরে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আপাতত ৫ বছরের জন্য চূড়ান্ত চুক্তি করেছে পিডিবি। এর আগে নেপাল ও বাংলাদেশ ২০১৮ সালে বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। নেপাল ও ভারতে বিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগ রেখে নেপালের সুঙ্কোশি-৩ প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। এ নিয়ে ইতোমধ্যে ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি সম্পন্ন হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে আরও এগিয়ে যাওয়ার আলোচনা চলছে।

এ ছাড়া নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি সঞ্চালন লাইন তৈরি করার বিষয়ে ভাবছে সরকার। বিদ্যুৎ খাতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রথমবারের মতো এই দুই দেশ পরিবেশবান্ধব জলবিদ্যুৎ বাণিজ্যের পথে অনেক দূর এগিয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, নেপালে বিশাল জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। সেখানে মূলত এখন ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করছে।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ