• সোমবার ২০ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৬ ১৪৩১

  • || ১১ জ্বিলকদ ১৪৪৫

দৈনিক গোপালগঞ্জ

বাংলাদেশে আশ্রয় নিলেন মিয়ানমারের আরও আট বিজিপি সদস্য

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০২৪  

কক্সবাজারের টেকনাফের দু'টি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) আরও আট সদস্য বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হোয়াইক্যংয়ের জিম্বংখালী সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে পাঁচজন এবং খারাংখালী পয়েন্ট দিয়ে আরও তিন বিজিপি সদস্য অনুপ্রবেশ করেন।  

এর আগে গত মার্চে বান্দরবানে নাইক্ষ্যংছড়ির জামছড়ি সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে এসেছিলেন ১৭৯ জন মিয়ানমার বর্ডার পুলিশ (বিজিপি) সদস্য। তারাও নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবি ব্যাটালিয়নে রয়েছেন। তাদের মিয়ানমার ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

টেকনাফ ২ বিজিবির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র দাবি করেছে, রোববার ভোরে মিয়ানমারের সরকার ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের মুখে প্রাণের ভয়ে অস্ত্রসহ আটজন সদস্য পালিয়ে আসেন। মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এই আট সদস্যকে প্রথমে নিরস্ত্র করে হেফাজতে নেয় বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি। পরে তাদের জিম্বংখালী খালী ও খারাংখালী বিওপিতে রাখা হয়।

টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নতুন করে কিছু মিয়ানমারের বিজিপি সদস্য বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। ভাষা সমস্যাসহ নানা কারণে আমরা তাদের পরিপূর্ণ পরিচয় নিশ্চিত হতে পারিনি। তবে যেটুকু তথ্য সংগ্রহ করেছি তাতে আশ্রয় নেওয়া সবাই মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের সঙ্গে যুক্ত বলে জেনেছি। তারা আমাদের হেফাজতে রয়েছে। 

এদিকে ঈদের দিন থেকে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির তুমুল যুদ্ধ চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে। 

গেলো ২ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তের ওপারে আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির সংঘর্ষ শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় ৪ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসেন ৩৩০ জন। তাদের মধ্যে ৩০২ জন বিজিপি সদস্য, চারজন বিজিপি পরিবারের সদস্য, দুইজন সেনা সদস্য, ১৮ জন ইমিগ্রেশন সদস্য এবং চারজন বেসামরিক নাগরিক ছিলেন। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত পাঠানো হয়।

এর আগে ২০২০ সালের ৮ নভেম্বর মিয়ানমারের পার্লামেন্টারি নির্বাচনে অং সান সুচির ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ৪১২ আসনের মধ্যে ৩৪৬টিতে জয় পায়। কিন্তু অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

এরপর ২০২১ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ক্ষমতা দখল করে। এরপর থেকে তাদের নিপীড়ন-নির্যাতন ও হামলায় অন্তত সাড়ে চার হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। বন্দী করা হয়েছে ২৫ হাজার মানুষকে। জান্তা বাহিনীর নৃশংস হামলায় মিয়ানমার জুড়ে অন্তত ৭৮ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে আরাকান আর্মিসহ দেশটির একাধিক গণতন্ত্রপন্থি সংগঠন জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ