• মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ ||

  • শ্রাবণ ১ ১৪৩১

  • || ০৮ মুহররম ১৪৪৬

দৈনিক গোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জে ১৬৫ প্রতিষ্ঠানের ৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ৮ জুন ২০২৩  

গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১ কোটি ১৩ লাখ টাকাসহ জেলা শহরের বিভিন্ন সরকারি, আধাসরকারি ও ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের ৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে সরকারি ১৪টি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং বেসরকারি ও ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে বকেয়া রয়েছে ৩ কোটি ৯ লাখ টাকা।

বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠিও দিয়েছে  কর্তৃপক্ষ। তবে বিল পরিশোধে তেমন কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ওজোপাডিকো।  
সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, বরাদ্দ না থাকায়  বিল পরিশোধ করা যাচ্ছে না।

ওজোপাডিকো সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে গোপালগঞ্জ পৌরসভার কাছে। এছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ে ১৩ লাখ ৬৫ হাজার, পুলিশ সুপারের কার্যলয়ে ৭ লাখ ৭৪ হাজার, বশেমুরবিপ্রবিতে ৫ লাখ ১৫ হাজার, শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজে ৩১ লাখ ৯ হাজার, জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ৬ লাখ ২ হাজার, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে ১ লাখ ৬৩ হাজার, সড়ক ও জনপথ বিভাগে ১ লাখ ৭৫ হাজার, আবহাওয়া অফিসে ৮৮ হাজার, গণপূর্ত বিভাগে ৮ লাখ ৯৬ হাজার, সদর এসিল্যান্ড অফিসে ২ লাখ ৮৬ হাজার, জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ৭ লাখ ৪৬ হাজার ও ডায়াবেটিস হাসপাতালে ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকাসহ ১৬৫টি সরকারি, আধা সরকারি ও ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে মোট ৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। 

এ বিষয়ে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, ইতোমধ্যে আমরা প্রতিটি প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য নোটিশ দিয়েছি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যথা সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে আমরা তার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করবো। বিল পরিশোধের পর পুনরায় তাদের আবার সংযোগ দেওয়া হবে। 

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ জোবায়ের হোসেন বলেন, নোটিশ পাওয়ার পর বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ এলেই বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হবে। 

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশীদ বলেন, নতুন ভবনে গিয়েছি তাই বিল বকেয়া পড়ছে। এবার বরাদ্দ এলেই বকেয়া বিল পরিশোধ করা হবে। 

বাকি সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে মুঠোফোনে  যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

প্রসঙ্গত, গত ১ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল অপরিশোধিত থাকলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার নির্দেশনা দেন। এরপরই বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ে তৎপর হয়ে ওঠে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) কর্তৃপক্ষ। 

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ