• বৃহস্পতিবার   ০৭ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ২৩ ১৪২৯

  • || ০৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

দৈনিক গোপালগঞ্জ

কোটালীপাড়ায় নির্মাণসামগ্রী রাখতে বিদ্যালয় মাঠ ভাড়া !

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৯ মে ২০২২  

নির্মাণসামগ্রী রাখতে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বান্ধাবাড়ি জেবিপি উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠ ভাড়া দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঠিকাদের বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে রেখেছেন ইট, বালু, খোয়াসহ নানা ধরনের নির্মাণসামগ্রী। প্রতিদিন সেই মাঠে মেশিন দিয়ে ইট ভাঙা হচ্ছে। ইট ভাঙার শব্দে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। সব সময় ধুলাবালু ওড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার নাগরা-বান্ধাবাড়ি-রাশমীল সড়ক নির্মাণ কাজের সামগ্রী রাখার জন্য বান্ধাবাড়ি জেবিপি উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠটি ভাড়া দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক শেখ আবদুর রশিদ ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হান্নান মোল্যা। এতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্ন ঘটায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মো. কামাল হোসেন বলেন, বর্তমানে জেবিপি উচ্চবিদ্যালয় ও বান্ধাবাড়ি হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রয়েছে। এই দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই মাঠটিতে খেলাধুলা করে। মাঠটিতে নির্মাণসামগ্রী রাখার কারণে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না। আর বিদ্যালয় চলাকালে মেশিন দিয়ে ইট ভাঙার কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণেও সমস্যা হচ্ছে। দুজনে মিলে সাত লাখ টাকা নিয়ে মাঠ ভাড়া দিয়েছে।

ভাড়া দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও সাত লাখ টাকার বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ আবদুর রশিদ। তিনি বলেন, মাঠটিতে কিছুদিনের জন্য নাগরা-বান্ধাবাড়ি-রাশমীল সড়ক নির্মাণকাজের সামগ্রী রাখার জন্য মো. জসিমউদ্দীন নামে এক ঠিকাদারের কাছে ৫০ হাজার টাকা ও ১টি সিসি টিভি মনিটরের বিনিময়ে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এখানে সাত লাখ টাকার বিষয়টি ভিত্তিহীন। প্রধান শিক্ষক বলেন, বিদ্যালয়ের যে মাঠটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে সেটি তাঁদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করে না। ওই মাঠটি তাঁদের হলেও বান্ধাবাড়ি হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করে।

বান্ধাবাড়ি হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, বিদ্যালয় মাঠে ইট খোয়া রাখার কারণে তাঁরা খেলাধুলা করতে পারছে না। এ ছাড়া বিদ্যালয় চলাকালে মেশিন দিয়ে ইট ভাঙা হয়। যার ফলে তাঁদের ক্লাস করতে সমস্যা হচ্ছে।

বান্ধাবাড়ি হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সবুজ ঘরামী বলেন, অর্থের বিনিময়ে মাঠ ভাড়া দেওয়ার কারণে বিদ্যালয় দুটোর শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হান্নান মোল্যার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ঠিকাদার মো. জসিমউদ্দীন বলেন, তিনি তিন মাসের জন্য মাঠটি ভাড়া নিয়েছেন। বিনিময়ে বিদ্যালয়ে ৫০ হাজার টাকা ও একটি সিসি টিভি ক্যামেরা মনিটর দিতে হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ ভাড়া দেওয়ার কোনো বিধান নেই। বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ