• মঙ্গলবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২২ ||

  • মাঘ ১২ ১৪২৮

  • || ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

দৈনিক গোপালগঞ্জ

তরুণদের দিয়ে কাজ না হলে অভিজ্ঞদের ডাকা উচিত: মুমিনুল

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর ২০২১  

তারুণ্যই শক্তি, তারুণ্যই ভবিষ্যৎ। কিন্তু তারুণ্যের ওপর অতি নির্ভরতায় যদি ফল না পাওয়া যায় তাহলে কী করা উচিত? টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হকের সোজাসাপ্টা কথা, ‘নতুনদের দিয়ে কাজ না হলে অভিজ্ঞদের দিয়ে কাজ করানো উচিত।’

চট্টগ্রাম টেস্ট ৮ উইকেটে হারের পর হতাশায় হাবুডুবু খাচ্ছেন মুমিনুল হক। বিমর্ষ অধিনায়ক বেশ হতাশা নিয়ে কথা বলেছেন গণমাধ্যমে। সেখানে তার কথা শুনেছে রাইজিংবিডি-

দ্বিতীয় টেস্টে কি সাকিবকে পাওয়া যাবে?

মুমিনুল হক: আমি নিশ্চিত না (দল ঘোষণার আগে)।

উইকেট সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন? এরকম উইকেটেই কি খেলতে চান?

মুমিনুল হক: যদি আমার কথা বলি- আমি এরকম উইকেট চাই। পুরোপুরি ফ্ল্যাট ছিল। ব্যাটসম্যানদের জন্য সহায়ক ছিল। আমাদের পেসারদের জন্য ফ্ল্যাট উইকেটে কিভাবে বল করতে হয় জানাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া কোচরা আছেন ওনারা হয়ত ভালো বলতে পারবেন। বিদেশে বল করা একরকম, দেশে আরেকরকম। আমার মনে হয় বেশি বেশি চার দিনের ম্যাচ খেলা উচিত। আপনি ভারতে দেখবেন তারা প্রচুর ম্যাচ খেলে। আমাদের পেসারদেরও সুযোগ পেলে চারদিনের ম্যাচ খেলা উচিত এবং ফ্ল্যাট উইকেটে বল করাটা শিখতে হবে।

তাইজুল ম্যাচে ৭৮ ওভার বোলিং করেছেন। উইকেট পেয়েছেন ৮টি। তার বোলিং সম্পর্কে মূল্যায়ন করবেন কিভাবে?

মুমিনুল হক: এই টেস্টে দুই-তিনটা প্রাপ্তির মধ্যে একটি হচ্ছে সবচেয়ে সেরা, তাইজুলের ৭ উইকেট (প্রথম ইনিংসে)। কারণ এই উইকেটে ৭ উইকেট পাওয়া সহজ ছিল না। গত এক দেড় বছরে যেভাবে উন্নতি করার চেষ্টা করছে সেভাবে এটা খুব ভালো।

বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি কেন দাঁড়াতে পারছে না?

মুমিনুল হক: এক থেকে চার আমিসহ। আমি বলব আমার আরো দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করা উচিত ছিল। চার নম্বরে নেমে যদি বড় ইনিংস খেলতে পারতাম তাহলে এগিয়ে যেতাম। টেস্ট তো বটেই যে কোনো ফরম্যাটে ১০ ওভারের মধ্যে যদি ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেন তাহলে যতই চেষ্টা করেন ছন্দ পেলেও দুই-তিনশ রানে জুটি করলেও বিশাল রান হবে না। ফ্ল্যাট উইকেটে ৩৩০ করে বোলিং করা কঠিন। তাও তাইজুল খুব ভালো করেছিল বলে আমরা ফিরতে পেরেছিলাম।

ম্যাচে অনেকটা সময় নিয়ন্ত্রণ রাখতে পেরেছিলেন। তারপরও ম্যাচটা হারলেন…

মুমিনুল হক: নিয়ন্ত্রণ… আসলে আপনাদের কাছে হয়ত ইতিবাচক মনে হচ্ছে। তবে আমার মনে হয় নিয়ন্ত্রণে কখনই ছিলাম না আমরা। আমার মনে হয় মুশফিক ভাই-লিটন ভালো খেলাতে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। তাইজুল পরে ভালো বল করেছে। ওইভাবে চারদিন পর্যন্ত টিকে ছিলাম। দ্বিতীয় ইনিংসে যদি জুটি হতো তাহলে হয়ত নিয়ন্ত্রণ আসত। আপনার কাছে মনে হলেও আমার তা মনে হয় না। লিটন খুব অসাধারণ পারফর্ম করেছে, মুশফিক ভাই ভালো করেছে। তাইজুল ফ্ল্যাট উইকেটেও দারুণ করেছে।

ওদের ওপেনার, আমাদের টপ অর্ডার পার্থক্য করে দিয়েছে?

মুমিনুল হক: অবশ্যই পার্থক্য এখানেই গড়ে দিয়েছে। প্রথম ইনিংসে ৪০ রানে ৪ উইকেট নেই (আসলে ৪৯/৪) । দ্বিতীয় ইনিংসেও ওইরকম (২৫/৪) । উপরের যদি এই অবস্থায় হয় তাহলে খেলায় ফেরা কঠিন। উপরে কেউ অবদান রাখলে খেলাটা অন্যরকম হতো।

পাকিস্তান পেসারদের স্কিল লেভেল ও আমাদের মধ্যে কোথায় পার্থক্য?

মুমিনুল হক: আমার কাছে মনে হয় পুরোপুরি একটা মানসিক ব্যাপার। ওরা মানসিকভাবেও শক্ত আছে। তারপর মনে করেন স্কিলফুল বোলারদের বিপক্ষে যখন ব্যাট করবেন তখন মানসিকভাবেও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। ওই জায়গায় কাজ করার সুযোগ নেই। একজন ব্যাটসম্যানের স্কিল নিয়ে কাজ করার হয়ত সুযোগ আছে। তবে এখন মানসিকভাবে কতটা নিজেকে শক্ত রাখতে পারে সেটাই আসল।

ব্যর্থতার দায়টা কার?

মুমিনুল হক: টপ অর্ডার, আমিও আছি। টপ অর্ডারে বাকি সবাই ছিল অনভিজ্ঞ, আমিই একমাত্র ছিলাম ৪০ টার বেশি ম্যাচ খেলা। কাজেই দায়টা আমার নিজের ওপরই নিচ্ছি।

ঢাকা টেস্ট শুরু হতে সময় নেই। টপ অর্ডার দুইদিনে কী করতে পারে?

মুমিনুল হক: এই দুইদিনে অনুশীলন খুব বেশি অর্জন করতে পারবেন না। সোজা বাংলায় যদি বলি। এই দুইদিনে ওত বেশি চিন্তা না করে মানসিকভাবে নিজেকে শক্ত রাখা। আর কোন জায়গাগুলোতে কাজ করা দরকার এইগুলি নিয়ে একটু চিন্তা করা। মানসিকভাবে নিজেকে ফিট রাখা। এই বোলারদের বিপক্ষে খেলব সেটার একটা মাইন্ডসেটআপ রাখা। মানসিকভাবে ফিট রাখতে পারলে জিনিসটা ওভারকাম করা যায়।

আমাদের দলে অনেকেই ব্যক্তিগত অর্জন করে কিন্তু আমাদের দলগত অর্জনে সেগুলো কাজে আসছে না। যেমন, লিটনের সেঞ্চুরি ও তাইজুলের ৭ উইকেট। এগুলোর ব্যবধান কিভাবে কমানো যায়?

মুমিনুল হক: এটা শেষ কয়েক বছর ধরে দেখছি। আমি যখন থেকে অধিনায়কত্ব করছি তখন থেকে দেখছি। এই ব্যবধানটা কমানো যায়… এটা আপনারাও জানেন, আমরাও জানি, আপনি যদি সব ফরম্যাটেই দেখেন, আমাদের এমন কোনো পারফর্মার নেই যে একা খেলবে আর দল জিতবে। একজন খেলবে আর দল জিতবে এমন পারফর্মার কম। আমাদেরকে দলীয়ভাবে পারফর্ম করতে হবে। যখন আমরা দলীয়ভাবে ম্যাচ খেলি তখন আমাদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকবে। পরিসংখ্যান তাই বলে। টেস্ট, ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি যাই বলেন। একজনের পক্ষে ম্যাচ জেতানো খুবই কঠিন। আমরা যদি দলীয়ভাবে সবাই পারফর্ম করি, যেমন তাইজুল ৭ উইকেট পেয়েছে। অন্য প্রান্ত থেকে যদি কোনো বোলার ২-৩ উইকেট পেত বা অন্যপাশ থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে যদি তাইজুলের সঙ্গে আরেকটু ভালো বল করত… সঙ্গে ব্যাটসম্যানরা যদি দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো ব্যাট করতো, আমি বা টপ অর্ডার দুই-একজন ভালো ব্যাট করত তাহলে ভালো হতো। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে আমাদের ওইভাবে কখনো দলীয় অর্জন হয় না। সবাই যখন দলীয়ভাবে পারফর্ম করি তখন ফল আসে। এটা আমাদের পরিসংখ্যান বলে।

দলে অনেক নতুন ক্রিকেটার আছে। কিন্তু তারা অভিজ্ঞ। আপনি কি চান, বাইরে থেকে অভিজ্ঞ কাউকে নিয়ে আসতে যাকে দিয়ে ফল পাওয়া সম্ভব?

মুমিনুল হক: আপনার অফিসে যদি কোনো কাজ আসে সেটা যদি কোনো জুনিয়র করতে না পারে তাহলে অবশ্যই আপনার মানুষ পরিবর্তন করতে হবে। যদি ওদের দিয়ে কাজ করাতে না পারেন তাহলে অভিজ্ঞদের দিয়ে কাজ করাতে হবে। আপনি যা বলছেন তার সঙ্গে একমত। কাজ না করলে অভিজ্ঞদের দিয়ে কাজ করাতে হবে। আমার কাছে মনে হয় ওইভাবে চিন্তা করা উচিত।

টেস্টে অনেক ক্রিকেটার আছে যারা নিয়মিত। অন্য ফরম্যাটে খেলে না। তাদের কি দায়িত্ব না বিরতির সময়ে নিজেদের ভুলগুলো ঝালিয়ে আরো উন্নতি করা?

মুমিনুল হক: কিভাবে সমস্যার সমাধান করা যায় এটা ব্যক্তিগতভাবে ঠিক করতে হবে। কোন জায়গায় সমস্যা সেটা খুঁজে নিতে হবে। সাইফ থেকে শুরু করে সবার। যখন বিরতি তখন সেসব নিয়ে কাজ করা উচিত।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ