ব্রেকিং:
চলন্ত ট্রেনের ছাদে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত ২
  • শুক্রবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ৯ ১৪২৮

  • || ১৬ সফর ১৪৪৩

দৈনিক গোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ভোগান্তিতে আশ্রয়ণবাসী

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২১  

গোপালগঞ্জে মধুমতি নদী ও বিল রুট ক্যানেলের পানি চরমভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মধুমতি নদীর পানি ৪ পয়েন্ট ৪৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে, বিল রুট ক্যানেল নদীর পানি ৩ পয়েন্ট ১০ বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদী ভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে নদী পাড়ের ৪টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের কমপক্ষে দেড় হাজারের মতো মানুষ। আটকে পড়া বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় বাড়ছে নানান ধরনের রোগ বালাই। খাওয়ার অনুপযোগী টিউবয়েলের পানিতে চরম দুর্গন্ধ। 

বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইস্টিমেটার মো. কাওছার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, গত কয়েকদিন ধরে মধুমতি নদী ও বিল রুট ক্যানেল নদীতে বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর পানি উপচে পড়ে বিভিন্ন খাল-বিল ডোবা-নালা দিয়ে প্রবেশ করে জেলার ৫টি উপজেলার সকল নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

মধুমতি নদী ও বিলরুট ক্যানেল নদী পাড়ে বসবাসরত আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছাড়াও গত কয়েক দিনের আটকে পড়া বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে ওইসব এলাকার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ওইসব এলাকার মানুষ।

সরজমিনে গেলে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার হরিদাসপুর, মালেঙ্গা ও উলপুর তেতুলিয়া ও মধুপুর এলাকায় মধুমতি নদীপাড়ে নির্মিত ৪টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেয়ায় আমরা ভীষণ খুশি। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে গত কয়েক বছর ধরে মধুমতি নদী ও বিলরুট ক্যানেল নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে শত শত বসতবাড়ী, মসজিদ-মাদ্রাসা, রাস্তাঘাট ও নানান প্রজাতির হাজার হাজার গাছপালা। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি জেনেও ভাঙনকবলিত সেই মধুমতি নদীপাড় এলাকা জেলার সদর উপজেলার হরিদাসপুর, মালেঙ্গা ও তেঁতুলিয়া উলপুরে অপরিকল্পিতভাবে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন স্থানীয় জেলা প্রশাসন। এখানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় রোগ বালাই বাড়ছে। খাওয়ার অনুপযোগী টিউবয়েলের পানিতে চরম দুর্গন্ধ। কোনো কোনো ঘরের ভেতরে ফাটল ধরেছে। টিন ফুটো হয়ে ঘরের ভেতরে বৃষ্টির পানি পড়ছে। প্রতিদিন নদীর পানি বেড়েই চলছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে এক সময় নদী ভাঙনে আমাদের সকলের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

অপরদিকে, অব্যাহত নদীর পানি বেড়ে বিভিন্ন খাল-বিল ও ডোবা-নালা দিয়ে প্রবেশ করছে জেলার নিম্নাঞ্চলে। ক্ষতি হচ্ছে নানান প্রকার ফসলের। বসতবাড়ি ছাড়াও তলিয়ে যাচ্ছে নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ রাস্তাঘাটও। পানিবন্দি হয়ে পড়া দরিদ্র মানুষগুলোর কাজ কাম না থাকায় অনেকটাই মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেছেন, নিম্নাঞ্চল হিসেবে পরিচিত জেলা গোপালগঞ্জে জলাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা। আধাঘণ্টা বৃষ্টি হলেই গোপালগঞ্জ জেলা শহরের পৌর এলাকায় হাঁটু পানি জমে যায়। আর এটাতো গ্রাম। পানি সরার জন্য ন্যাচারাল যে জায়গাগুলো তা কিন্তু আমরা নষ্ট করে ফেলেছি। বৃষ্টিতে জমে থাকা পানি কিন্ত সরে যাচ্ছে না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের আশ্রয়ণ প্রকল্পের কোথাও যদি কোনো ধরনের অনিয়ম ও ঘর নির্মাণের কাজ তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের কোনো ধরনের গাফিলতি থেকে থাকে তাহলে আমরা অবস্যই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। ইতিমধ্যে আমাদের চোখে যে সকল ঘরবাড়িতে ত্রুটি ধরা পড়েছে তা আমরা ঠিক করে দিয়েছি।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ