• মঙ্গলবার   ০৫ জুলাই ২০২২ ||

  • আষাঢ় ২১ ১৪২৯

  • || ০৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

দৈনিক গোপালগঞ্জ

কেন হামলাকারীদের ধরা হচ্ছে না প্রশ্ন বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের

দৈনিক গোপালগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২  

ভিডিও ফুটেজ থাকার পরও কেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িতদের আটক করা হচ্ছে না- এই প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

আজ রবিবার (২৭ ফেব্র“য়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এই ক্ষোভের কথা জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আরেক মুখপাত্র পিউ মৃধা।

তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু সংঘবদ্ধ ধর্ষণে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই না। আমরা চাই যারা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে, তাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।’

শিক্ষার্থী পিউ মৃধা বলেন, ‘ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদের দ্রুত শাস্তি দিতে হবে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

তিনি বলেন, আমাদের এক শিক্ষার্থী গণধর্ষণ হলে বিচারের দাবিতে আমরা আন্দোলন (২৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকে শুরু করি। আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর বহিরাগতরা হামলা চালায়। এতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা আহত হন। কিন্তু এখন পযর্ন্ত হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন। আমরা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতার করে বিচারের দাবি জানাই।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের ওপর থেকে আমরা আস্থা হারিয়েছি। আমরা এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রাখি। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাস পেলে আন্দোলন থেকে সরে গিয়ে আমরা ক্লাসে ফিরে যাব।

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে কথা বললে তবেই শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাব।’

‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে টানা চার দিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। পরে আজ সকাল ১০টায় সাংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের বিস্তারিত তুলে ধরেন মুখপাত্র পিউ মৃধা।

পরে তিনি পরবর্তী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দুপুর ১২টায় ধর্ষকদের প্রতীকী ফাঁসি কার্যকর ও বিক্ষোভ মিছিল। বিকেল ৪টায় ধর্ষণবিরোধী প্রতিবাদী নাটক ও সন্ধ্যা ৭টায় আলোর মিছিল।

এদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, যে সকল ধর্ষক ইতোমধ্যে ধরা পড়েছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর করা, আন্দোলনকারী ছাত্র শিক্ষকদের ওপর বহিরাগতদের হামলার দৃষ্টান্তমূলক বিচার, হলের বাইরে যে সব শিক্ষার্থীরা অবস্থান করে তাদের সঠিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করণ এবং মন্ত্রীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দাবি দাওয়া তুলে ধরা ও প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র আশ্বাসের ভিত্তিতে তারা ক্লাস এবং পরীক্ষার হলে ফিরে যাবেন।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাতে শহরের নবীনবাগ এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে।

দৈনিক গোপালগঞ্জ
দৈনিক গোপালগঞ্জ